সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অপরিকল্পিত বাঁধে হাওরে সর্বনাশ জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত লক্ষাধিক হেক্টর জমির ফসল শনিবার সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিসি ব্লক চুরির অভিযোগ উন্নয়ন প্রকল্পে বদলাচ্ছে ৫ বিদ্যালয়ের অবয়ব দিরাইয়ে ৬ দোকান পুড়ে ছাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল আজ মহান মে দিবস তাহিরপুরে ভাঙারখাল নদীর উপর টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মাণ, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে ৬৪৭৬ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে, থাকছে ৪৯৮ প্রস্তাব সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপিত জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেল ছায়ার হাওর কাটা ধানে গজাচ্ছে চারা জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের ধান, অসহায় কৃষক হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিরাইয়ে পৃথক দুই সংঘর্ষে আহত ৪০ হাওর বাঁচাতে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়

স্বৈরশাসক ফিরে আসার পথ বন্ধ করা প্রসঙ্গে

  • আপলোড সময় : ২০-০৩-২০২৫ ০১:২২:১০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০৩-২০২৫ ০১:২২:১০ পূর্বাহ্ন
স্বৈরশাসক ফিরে আসার পথ বন্ধ করা প্রসঙ্গে
গতকালের (১৯ মার্চ ২০২৫) দৈনিক সুনামকণ্ঠের দুইটি সংবাদশিরোনাম ছিল : ‘স্বৈরশাসক ফিরে আসার সমস্ত পথ বন্ধ করতে হবে : অ্যাড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের’ ও ‘শেখ হাসিনা পরিবারের ৩৯৪ কোটি টাকা জব্দ’। এই দুইটি সংবাদশিরোনামে বিবৃত প্রথমটিতে ‘স্বৈরশাসক’ ও দ্বিতীয়টির মর্মার্থে বিধৃত ‘একটি পরিবারের আর্থিক সঞ্চয় ৩৯৮ কেটি টাকা’ এই দুইটি প্রপঞ্চ বা সমাজবাস্তবতা পরস্পরের সঙ্গে আবিচ্ছেদ্যভাবে সংশ্লিষ্ট। একটি অন্যটির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ পরিপূরক। একটির অভাবে অন্যটি আবির্ভূত হয় না। এই দুটি প্রপঞ্চ একটি মূর্তনির্দিষ্ট আর্থনীতিক নিয়মের ঐতিহাসিক পরিণতি। এই পরিণতিকে প্রতিরোধ করা খুব একটা সহজ কাজ নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে বার বার ভিন্ন ভিন্ন দেশে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছে, স্বৈরশাসনের প্রবণতাকে বিনাশ করতে বিপ্লব হয়েছে, কিন্তু কালচক্রের আবর্তে পড়ে প্রতিবিপ্লব হয়েছে এবং যথারীতি আবার স্বৈরশাসন ফিরে এসেছে। এই বিপ্লব কিংবা প্রতিবিপ্লব এক শ্রেণির মানুষই করেছে অন্য শ্রেণির মানুষের বিরুদ্ধে গিয়ে এবং প্রকারান্তরে প্রতিপন্ন হয়েছে যে, পৃথিবীতে মানুষই মানুষের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে দাঁড়িয়ে আছে উৎপাদিত সম্পদের উপর ব্যক্তিগত মালিকানা উদ্ভবের কাল থেকে আজ পর্যন্ত। মানুষের বিরুদ্ধে মানুষের এই উত্থানের মূলে কাজ করে মানুষের চেতনায় বদ্ধমূল হয়ে থাকা উদ্বৃত্তশ্রম বা উদ্বৃত্তসম্পদ আত্মসাতের প্রবণতা এবং এই প্রবণতাকে সার্থক করে তোলে প্রতিষ্ঠিত আর্থসামাজিক ব্যবস্থাকাঠামো, যে ব্যবস্থাকাঠামোটি আসলে সম্পদ আত্মসাতের একটি অনুকূল সমাজসাংস্থিতিক পরিসর। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলার এখানে অবকাশ নেই। কেবল বলি রাষ্ট্রশাসনের পরিসরে স্বৈরশাসকের আবির্ভাবকে বন্ধ করতে হলে সমাজপরিসরে জায়মান উদ্বৃত্তশ্রম আত্মসাৎ অর্থাৎ শ্রমশোষণ অথবা শ্রেণিশোষণের আর্থনীতিক প্রক্রিয়াকে প্রতিরোধ করতে হবে। তাহলেই কোনও ব্যক্তি বা পরিবার এককভাবে ৩৯৪ কোটি টাকার মালিক হতে পারবে না এবং স্বৈরশাসক হওয়ারও আশঙ্কা একেবারেই দূরিভূত হয়ে গণতান্ত্রিকতা ফিরে আসবে। ভুলে গেলে চলবে না, সঞ্চিত সম্পদ পুঁজি হয়ে উঠে সমাজশাসনের ক্ষমতার উদ্ভব ঘটায় এবং স্বৈশাসনের পথ নিষ্কণ্টক করে পুঁজির প্রভুত্বকে নিশ্চিত করে তোলে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স